Header Border

ঢাকা, , | () ২৩.৫১°সে
শিরোনাম
বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা দানে বিশেষ জোর দিতে হবে — রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর রাজনীতি থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা বৃষ্টির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২৪ আগস্ট বদরুন্নেসা কলেজে ১১ নভেম্বর থেকে ঢাবি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন শুরু বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামসহ ৫ জেলার এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় স্বস্তি: বৃষ্টি-দুর্যোগে পরীক্ষা মিস করলেও মিলবে বিশেষ সুযোগ, ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পরীক্ষা হবে কি হবে না—অনিশ্চয়তায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, দুশ্চিন্তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি বৈঠক এইচএসসি পরীক্ষা: পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি-অসঙ্গতির জন্য ৪ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী, ছাত্রী এগিয়ে

ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর রাজনীতি থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতি দিয়ে যে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা, দীর্ঘ চার দশকের পথ পেরিয়ে সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। একসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া এই রাজনীতিক শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে।

ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষকতা দিয়ে শুরু

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা শুরু হয় ছাত্রজীবনেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। সরকারি চাকরির সময় প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পৌর চেয়ারম্যান

রাজনীতিতে প্রবেশের অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী রাজনীতিতে সাফল্য পান মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

সেই সময় তিনি কোনো জাতীয় রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন না। স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে পৌরসভার নেতৃত্ব দেওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।

এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। স্থানীয় পর্যায়ের সংগঠক থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতেও তার পরিচিতি বাড়তে থাকে।

সংসদে প্রথম জয় ও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রথম কয়েকটি প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয় পাননি তিনি।

তবে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা অব্যাহত রাখেন। এর ফল আসে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে। ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন তিনি।

বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় জায়গা পান মির্জা ফখরুল। কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আবারও পরাজিত হলেও দলীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকে।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে উত্থান

২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল। পরের বছরগুলোতে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তার ভূমিকা আরও বাড়ে।

২০১১ সালে বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর এ দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালে তিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

এরপর দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন আন্দোলন, নির্বাচন, রাজনৈতিক সংকট, মামলা ও দলীয় কর্মসূচিতে বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

আবারও ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটে জয়

রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে নিজের নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে সম্পর্কও ধরে রেখেছেন মির্জা ফখরুল। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

স্থানীয় রাজনীতি দিয়ে শুরু করে সংসদীয় রাজনীতি, মন্ত্রিসভা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনের পর এবার তার রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত হলো রাষ্ট্রপতির পদ।

পৌরসভা থেকে বঙ্গভবন

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালে একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতা চোখে পড়ে। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে তার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, চার দশক পর তা এসে পৌঁছেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে।

এই দীর্ঘ সময়ে তাকে যেমন নির্বাচনী পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তেমনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সুযোগও এসেছে। বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে মহাসচিবের পদে উন্নীত হওয়ার পর এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতির মাঠ থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্র হয়ে বঙ্গভবন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার কয়েক দশকের সক্রিয় উপস্থিতিরই প্রতিফলন।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা দানে বিশেষ জোর দিতে হবে — রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বৃষ্টির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২৪ আগস্ট বদরুন্নেসা কলেজে
১১ নভেম্বর থেকে ঢাবি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন শুরু
বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামসহ ৫ জেলার এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
পরীক্ষা হবে কি হবে না—অনিশ্চয়তায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, দুশ্চিন্তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি বৈঠক

আরও খবর

ডিজাইন ও ডেভেলপঃ আবদুল্লাহ আল মাসুদ