প্রশ্নপত্র ফাঁস, হ্যাকিং, ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষায় প্রতারণা—এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট আইন কার্যকর করতে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল–২০২৬’।
🔥 নতুন আইনে যা থাকছে
✅ অনলাইনসহ যেকোনো মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
✅ ডিজিটাল কারসাজি (হ্যাকিং, ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা গোপন করা) করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
✅ পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড।
✅ পরীক্ষায় অসদুপায়ে সহায়তার জন্য চুক্তি বা এমন চুক্তির চেষ্টা করলেও সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
📌 উত্তরপত্র মূল্যায়নেও কঠোরতা
কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন (Over Assessment) বা অবমূল্যায়ন (Under Assessment) করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
তবে এই অভিযোগ প্রমাণে তৃতীয় পরীক্ষকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
👶 শিশুদের জন্য বিশেষ বিধান
যদি কোনো শিশু এই আইনের আওতায় অপরাধ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
🏛️ সংসদে যেভাবে পাস হলো বিল
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল–২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ যেকোনো মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি এবং ডিজিটাল কারসাজি-সংক্রান্ত নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
📢 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সর্বোচ্চ সাজা ছিল ১০ বছরের কারাদণ্ড। সংশোধিত আইনে সেটি ৫ বছরে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ডিজিটাল অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তি আরও স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

২৩.৫১°সে