ভারতে বসবাসরত এক বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর পর তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশে থাকা তার দুই মেয়ে। মানবিক বিবেচনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে এই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করে।
বুধবার দুপুরে দুই দেশের সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার ঘোজাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা গফুর মন্ডলের স্ত্রী জরিনা খাতুন (৯৮) মঙ্গলবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন।
তার দুই মেয়ে—শিরিনা খাতুন ও আলেয়া খাতুন—বিবাহসূত্রে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাড়দ্দহা (ভাড়ুখালী) গ্রামে বসবাস করছেন। মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তারা শেষবারের মতো মুখ দেখার আকুতি জানিয়ে বিজিবির কাছে আবেদন করেন। একই সময়ে ভারতের স্বজনরাও বিএসএফের কাছে অনুরোধ জানান।
উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিজিবির সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়নের ভোমরা বিওপি ও ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বিএসএফ ক্যাম্পের সমন্বয়ে মরদেহ জিরো পয়েন্টে আনা হয়।
বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য দুই দেশের পরিবারের সদস্যরা শেষ দেখা ও সংক্ষিপ্ত আলাপের সুযোগ পান। আবেগঘন সেই মুহূর্ত শেষে মরদেহটি পুনরায় ভারতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সীমান্তে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

২৩.১৬°সে