বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেতে এখন থেকে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস হতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১০ মার্চ নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি ও এডহক কমিটি গঠন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
‘নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪’ (৩১ আগস্ট ২০২৫ সালের সংশোধনী) অনুযায়ী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রবিধি ৭৫(২) এবং অন্যান্য বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রবিধি ৭৪(২) অনুসারে এডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান কিংবা অন্য কোনো বিশেষ যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ও জীবনবৃত্তান্ত প্রস্তাব আকারে পাঠাবেন। মহানগর এলাকায় বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে এবং অন্যান্য এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। পরে জেলা প্রশাসক প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করবেন। শিক্ষা বোর্ড প্রস্তাবিত তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করবে।
প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, শিক্ষায় আগ্রহী খ্যাতিমান সমাজসেবক কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাও থাকতে পারেন।
এর আগে বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রিকে ন্যূনতম মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কেবল ডিগ্রি নয়, প্রার্থীর যোগ্যতা ও দক্ষতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে সিনিয়র শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক হওয়ার শর্ত থাকায় সুযোগের পরিধি সীমিত ছিল। এতে বিভিন্ন সময় পক্ষপাতিত্ব বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠত। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের সুযোগ বাড়ানো এবং একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

২৩.১৬°সে
