স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ পাঁচটি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এসব খেলা পাঠ্যক্রমের অংশ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার—এই পাঁচটি খেলাকে ধাপে ধাপে চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলবে এবং মাদকাসক্তি ও মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’–এর নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন শিক্ষার্থী—যাদের মধ্যে ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন বালক এবং ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন বালিকা—এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলার অন্তর্ভুক্তি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং শিক্ষাঙ্গনে ক্রীড়াচর্চার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করবে।

২৩.৫১°সে