জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও শিশুবান্ধব করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার -জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রাথমিক কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে নাগরিক শিক্ষা (সিভিক এডুকেশন), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় ও চ্যালেঞ্জভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “জাপানের নাগরিক শিক্ষা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আমরা জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে ‘ম্যাথ ল্যাব’ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ল্যাবের আদলে গণিত শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জাইকার কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা প্রশাসনে জবাবদিহিতা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন (কেপিআই) এবং মনিটরিং ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে থাইল্যান্ড ও তুরস্কের শিক্ষা প্রশাসনিক কাঠামোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে জাইকা প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে। কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং শিশুবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ তৈরিতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এসময় অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মোখলেছুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৩.৫১°সে