বয়স্কভাতা কার্যক্রমে শুধুমাত্র প্রকৃত দুস্থ ও বয়স্ক নাগরিকদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি বলেছেন, যাদের ভাতাভোগী তালিকায় ত্রুটি পাওয়া যাবে, তাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত যোগ্যদের নিয়ে একটি স্বচ্ছ ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে।
আজ (বুধবার) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত “বয়স্ক ভাতার বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের তালিকা হালনাগাদকরণ ও পাইলটিং কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায়” সভাপতির বক্তব্যে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
তিনি জানান, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে বয়স্কভাতাভোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র চার লাখ, যা এখন বৃদ্ধি পেয়ে ৬১ লাখে পৌঁছেছে। এ অগ্রগতি বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক মাইলফলক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, “সরকার প্রতিবছর সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করলেও এখনো অনেক দরিদ্র মানুষ এই সুবিধা পাচ্ছেন না। সুবিধাভোগী নির্বাচন ও ভাতা বিতরণে অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। তাই প্রকৃত ভাতাভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে ৮টি উপজেলায় পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এদেশের স্থায়ী নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে প্রকৃত দুস্থ ও বয়স্কদের ভাতার আওতায় আনতে হবে। অযোগ্য ভাতাভোগীদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
উল্লেখ্য, এই পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় এ তথ্য হালনাগাদ ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হবে। পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও আর্থিক সমন্বয় বিষয়ে বাস্তব ধারণা পাওয়া যাবে, যা পরবর্তীতে সারাদেশে সুবিধাভোগী যাচাই ও হালনাগাদকরণে সহায়ক হবে।
পাইলটিং কার্যক্রমের আওতাধীন উপজেলা হলো— বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, ময়মনসিংহের গৌরিপুর, রংপুরের তারাগঞ্জ, নওগাঁর নিয়ামতপুর, খাগড়াছড়ির রামগড় এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া।
সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৩.৩৩°সে