দেশের শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে চলমান হাজার হাজার মামলার কারণে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বিচারাধীন মামলার জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গতিতে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া কঠিন।
বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও আদালতে চলমান মামলাগুলোর কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক মামলা এখনো আপিল বিভাগে কার্যতালিকাভুক্ত না হওয়ায় জটিলতা কাটছে না।
এর আগে সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট ও নিয়োগসংক্রান্ত মামলা জটিলতার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী জানান, শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদে নিয়োগ কার্যক্রমও মামলার কারণে আটকে আছে। একই পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-নাইটগার্ড নিয়োগ কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৩ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কিন্তু পদোন্নতি-সংক্রান্ত মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বহু যোগ্য শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হওয়ার আগেই অবসরে যাচ্ছেন। ফলে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বদলির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত ক্ষমতা উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

২৩.৫১°সে