দেশের স্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে শূন্যপদ বৃদ্ধি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের বিপরীতে শিক্ষক কর্মরত নেই। কোথাও বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক সংকট প্রকট, আবার কোথাও প্রধান শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণি বা বিষয়ের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাগত বৈষম্য আরও বাড়ছে।
এদিকে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার, নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার না হলে এসব উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে শূন্যপদ পূরণ এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে বেশ কিছু কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষায় বেশি অর্থ বরাদ্দ মানে হচ্ছে দেশের জন্য বিনিয়োগ। শিক্ষা খাত যদি ভালো থাকে তাহলে দেশের সবগুলো খাত ভালো থাকতে বাধ্য। শিক্ষক নিয়োগ মানেই হচ্ছে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ। বছরের পর বছর শূণ্যপদ থাকা ঠিক নয়। শিক্ষক সংকটের কারণে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। এই চিত্র শিক্ষার জন্য ভালো না।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকসই উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষক সংকট নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্রুত শূন্যপদ পূরণ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব।

২৩.৩৩°সে