Header Border

ঢাকা, , | () ২৩.১৬°সে
শিরোনাম
বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা দানে বিশেষ জোর দিতে হবে — রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর রাজনীতি থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা বৃষ্টির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২৪ আগস্ট বদরুন্নেসা কলেজে ১১ নভেম্বর থেকে ঢাবি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন শুরু বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামসহ ৫ জেলার এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় স্বস্তি: বৃষ্টি-দুর্যোগে পরীক্ষা মিস করলেও মিলবে বিশেষ সুযোগ, ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পরীক্ষা হবে কি হবে না—অনিশ্চয়তায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, দুশ্চিন্তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি বৈঠক এইচএসসি পরীক্ষা: পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি-অসঙ্গতির জন্য ৪ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী, ছাত্রী এগিয়ে

চিকিৎসায় নোবেল: রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সুরক্ষা কৌশল উদ্ঘাটন

মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম সাধারণত বাইরের আক্রমণকারী (যেমন– ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কিন্তু কখনও কখনও ভুলবশত এটি আক্রমণকারীকে প্রতিরোধের বদলে শরীরের নিজস্ব কোষ বা অঙ্গকে আক্রমণ করে। অনেকটা কম্পিউটারের ম্যালফাংশন বা ত্রুটির মতো। মানবদেহে এটি ঘটলে তা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়।

এই ত্রুটিকে যে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব সেটিই গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেরি ব্রাঙ্কো, সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকসের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের বিশিষ্ট অধ্যাপক শিমন সাকাগুচি।

গতকাল সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শরীরতত্ত্বে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট। আজ মঙ্গলবার ঘোষিত হবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীদের নাম।
দ্য নোবেল প্রাইজ কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ বা রোগ প্রতিরোধ করতে গিয়ে দেহের নিজস্ব অঙ্গের ক্ষতি এড়ানোর ব্যবস্থা আবিষ্কারের মাধ্যমে এই তিন বিজ্ঞানী যুগান্তকারী কাজ করেছেন।

যা নিয়ে গবেষণা

গবেষকদের কাজের মূল অংশ ছিল টি-সেল (সাদা রক্তকোষের একটি প্রকার) সম্পর্কে আরও ভালো বোঝাপড়া করা। এই টি-সেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কোষ। এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

গবেষকরা যে কোষগুলো আবিষ্কার করেছেন, সেগুলোকে বলা হচ্ছে ‘‘রেগুলেটরি টি-সেল’ বা নিয়ন্ত্রক টি-সেল। জীবাণুকে আক্রমণ করতে গিয়ে শরীরের নিজস্ব কোষ বা অঙ্গের যাতে ক্ষতি না হয় নিয়ন্ত্রক টি-সেল সেটি নিশ্চিত করে।

দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজস্ব অঙ্গ বা কোষকে আক্রমণ করলে দেখা দেয় অটোইমিউন রোগ। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সেস (এনআইএইচ) বলছে, বিজ্ঞানীরা ৮০ ধরনের অটোইমিউন রোগ শনাক্ত করেছেন। যেমন টাইপ-১ ডায়াবেটিস। এই রোগগুলোর অধিকাংশের কোনো নিরাময় নেই। এবং কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ প্রশমনের জন্য আজীবন চিকিৎসার দরকার হয়।
নোবেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিজ্ঞানীদের এই অবিষ্কার ক্যান্সার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা গবেষণায় অবদান রেখেছে। এটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও সাহায্য করতে পারে।

আক্রমণের সংকেত

তিন বিজ্ঞানীর গবেষণা নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে দ্য নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটে। সেখানে বলা হয়েছে, মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেভাবে প্যাথোজেন বা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের মতো অণুজীবকে শনাক্ত করে সেটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার। এই অণুজীব বা সংক্রামকগুলো ভিন্ন ভিন্ন আকারের হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোর মিল থাকে মানবদেহের কোষের সঙ্গে। তাই এখানে একটি প্রশ্ন ওঠে, ইমিউন সিস্টেম কীভাবে ঠিক করে কোন অণুজীবকে আক্রমণ করতে হবে এবং কোনটিকে রক্ষা করতে হবে?

এটির উত্তর খুঁজে বের করেছেন নোবেল বিজয়ীরা। তারা ইমিউন সিস্টেমের ‘নিরাপত্তা প্রহরী’ হিসেবে রেগুলেটরি টি-সেল শনাক্ত করেছেন। এই টি-সেল দেহের প্রতিরক্ষায় অপরিহার্য খেলোয়াড়।
মূলত দুই ধরনের টি-সেল আছে– হেলপার ও কিলার। হেলপার টি-সেলগুলো নিয়মিত দেহের চারপাশে টহল দেয়। যদি এরা কোনো আক্রমণকারী সংক্রামক শনাক্ত করে, তবে অন্যান্য কোষকে সতর্ক করে। কিলার টি-সেল ভাইরাস বা অন্যান্য সংক্রামক দ্বারা সংক্রমিত কোষ ধ্বংস করে। এরা টিউমার কোষকেও আক্রমণ করতে পারে।

সব ধরনের টি-সেলের উপরিভাগে বিশেষ প্রোটিন থাকে, যাকে টি-সেল রিসেপ্টর (গ্রাহক) বলা হয়। এই রিসেপ্টরগুলোকে তুলনা করা যেতে পারে সেন্সরের সঙ্গে। এগুলোর মাধ্যমে টি-সেল অন্য কোষগুলো স্ক্যান করে দেখে দেহ আক্রমণের মুখে আছে কিনা। ক্ষতিকর কোনো কিছুর উপস্থিতি পাওয়ামাত্রই রিসেপ্টরগুলো টি-সেলকে সংকেত পাঠায়– শরীর আক্রমণের মুখে পড়েছে।
১৯৮০-এর দশকে গবেষকরা বুঝতে পারেন, টি-সেল থাইমাস গ্রন্থিতে পরিপক্ব হয়। এখানেই সাধারণ টি-সেলগুলোকে ক্ষতিকর সংক্রামক চিনতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সেন্ট্রাল টলারেন্স’।

ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ

নোবেল বিজয়ী তিন গবেষকের একজন শিমন সাকাগুচি নিয়ন্ত্রক টি-সেল আবিষ্কার করেন ইঁদুরের ওপর গবেষণার মাধ্যমে। তিনি এই টি-সেল দিয়ে একটি ইঁদুরকে অটোইমিউন রোগ থেকে রক্ষা করেছিলেন। সাকাগুচি টি-সেল পৃথক করেন কোষের ওপর থাকা প্রোটিন দিয়ে। তিনি হেলপার টি-সেলকে সিডি৪ ও কিলার টি-সেলকে আলাদা করেন সিডি৮ প্রোটিন দ্বারা। সাধারণত এই কোষগুলো ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে। তবে সাকাগুচি ইমিউন সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়ের খোঁজ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে গবেষণার পর ১৯৯৫ সালে নতুন ধরনের টি-সেলটি সামনে আনেন।
‘দ্য জার্নাল অব ইমিউনলজি’তে সাকাগুচি দেখান, নতুন টি-সেল সিডি২৫ নামক প্রোটিন বহন করে। যেটির উপস্থিতি ইমিউন সিস্টেমকে শান্ত রাখে।

সাকাগুচি যখন টি-সেল নিয়ে কাজ করছিলেন তখন অপর দুই গবেষক মেরি ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড র‌্যামসডেল মনোযোগ দেন অটোইমিউন থেকে সুস্থ হওয়া ইঁদুরের জিন খুঁজে বের করতে। তারা নতুন আবিষ্কৃত জিনগুলোর তথ্য সংরক্ষণ করতে করতে একসময় ‘এফওএক্সপি৩’ নামের মানব সংস্করণের জিন খুঁজে পান। যেটির ত্রুটির কারণে অটোইমিউন রোগ দেখা দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি অটোইমিউন রোগের গবেষণায় নতুন গতি আনে।

যেভাবে কাজ করবে

অটোইমিউন রোগের ক্ষেত্রে গবেষকরা নিয়ন্ত্রণকারী টি-সেলের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। প্রাথমিক গবেষণায় তারা রোগীদের ইন্টারলিউকিন-২ সাইটোকাইন (এক ধরনের প্রোটিন) দিচ্ছেন; যা নিয়ন্ত্রণকারী টি-সেলের বৃদ্ধি ও সক্রিয়তা বাড়িয়ে তোলে।

আরেকটি কৌশল হলো, রোগীর দেহ থেকে নিয়ন্ত্রণকারী টি-সেল আলাদা করে ল্যাবরেটরিতে তা বৃদ্ধি করা এবং পরে আবার রোগীর দেহে প্রবেশ করানো। এতে রোগীর শরীরে নিয়ন্ত্রণকারী টি-সেলের সংখ্যা বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে গবেষকরা এই টি-সেলগুলোর জিনগত পরিবর্তন আনেন যাতে এগুলোতে অ্যান্টিবডি যুক্ত হয়। পরে এই কোষগুলো নির্দিষ্টভাবে কোনো প্রতিস্থাপিত যকৃৎ বা কিডনিতে পাঠান, যাতে সেগুলো ওই অঙ্গকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে করে।

দ্য নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটের নিবন্ধে বলা হয়েছে, গবেষকরা নিয়ন্ত্রক টি-সেল ব্যবহার করে রোগ মোকাবিলার আরও নানা উপায় নিয়ে পরীক্ষা করছেন।

ডিজাইন ও ডেভেলপঃ আবদুল্লাহ আল মাসুদ