প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষায় পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষকস্বল্পতা, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা, বিশুদ্ধ পানির সমস্যা, শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়গুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় শিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠদান কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিদ্যালয়গুলোর সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী বান্দরবানের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি) কার্যক্রমে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সেখানে তিনি বলেন, “শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়, এটি নেতৃত্বের দায়িত্ব। শিক্ষকরা দায়িত্বশীলভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করলে দেশের সব শিক্ষার্থী সঠিকভাবে শিক্ষিত হয়ে উঠবে।”
শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৩.৩৩°সে